People's Leasing And Financial Services Limited

News Details


Date : 2026-03-24

পিপলস্‌ লীজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেড ১৯৯৬ সালে কোম্পানী আইন অনুযায়ী একটি পাবলিক লিমিটেড কোম্পানী হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয় এবং পরবর্তীতে বাংলাদেশ ব্যাংকের লাইসেন্স গ্রহণের মাধ্যমে আর্থিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে কার্যক্রম শুরু করে। প্রতিষ্ঠার পর দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিষ্ঠানটি দেশের আর্থিক খাতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে আসছে। তবে পরবর্তী সময়ে কিছু অনিয়ম, দূর্বল ব্যবস্থাপনা এবং ঋণ বিতরণ সংক্রান্ত দূর্নীতির কারণে প্রতিষ্ঠানটি আর্থিক সংকট পড়ে।এর ফলশ্রুতিতে ২০১৯ সালে বাংলাদেশ ব্যাংকের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে মাননীয় আদালত লিকুইডেটর নিয়োগ করেন। পরবর্তীতে কয়েক হাজার আমানতকারীর আবেদনের প্রে্িক্ষতে প্রতিষ্ঠানটি পূন:গঠনের জন্য মাননীয় উচ্চ আদালত ১২.০৭.২০২১ইং একটি বোর্ড গঠন করে দেয় ও আমানতকারীদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য বিভিন্ন নির্দেশনাসহ তাদের কার্যক্রম পরিচালনা বিষয়ে সময় সময় নির্দেশনা প্রদান করে।

আদালত-নিযুক্ত পরিচালনা পর্ষদ আদালতের নির্দেশনা মোতাবেক কার্যক্রম পরিচালনা করে এ পর্যন্ত নিম্ন¥লিখিত অগ্রগতি ও সাফল্য অর্জন করেছে:

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রতিষ্ঠানটিকে পুনরুজ্জীবিত করার লক্ষ্যে গঠিত এই পরিচালনা পর্ষদ এবং বর্তমান ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ সমন্বয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন সংস্কারমূলক পদক্ষেপ বাস্তবায়ন করছে।

১)   বকেয়া ঋণ আদায়:

বর্তমান পরিচালনা পর্ষদ দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকে প্রতিষ্ঠানটির ঋণ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন বাস্তবধর্মী পদক্ষেপ গ্রহণের মাধম্যে œ  উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি অর্জন করেছে এবং তারই প্রেক্ষিতে আগষ্ট ২০২১ ইং থেকে বর্তমান সময় পর্যন্ত প্রতিষ্ঠানটি প্রায় ২০০ কোটি টাকার অধিক ঋণ আদায় করতে সক্ষম হয়েছে।

২)   আমানতকারীদের অর্থ ফেরত:

আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী আমানতকারীদের অর্থ ফেরত প্রদানের বিবরণ নিম্নরুপ:

ক্রমিক নং  বিবরণ/ধরন  আমানতকারীর সংখা   টাকার পরিমান
 ১ম কিস্তী  ১৬৩৪ জন   ৩৭ কোটি
২   ২য় কিস্তী  ৭৪৯ জন    ২০ কোটি
 বিশেষ প্রয়োজন (এক্সট্রিম নেসেসিটি)  ৩৫২ জন    ৬.৫ কোটি
 পিএফ/জিএফ/ট্রাস্টি  ৮৫ জন   ৪.৫ কোটি
 সম্পূর্ন পরিশোধ (৫ লক্ষ টাকার নিচে)  ৭৩৫ জন   ১৭ কোটি
    মোট =   ৮৫ কোটি

    

উল্লেখ্য যে আমানতকারীদেও স্বার্থকেই প্রাধান্য দিয়ে ইতিমধ্যেই ৩য় কিস্তির টাকা ফেরৎ প্রদান প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।

৩)   ব্যয় সংকোচন:

পুনর্গঠন কার্যক্রমের অংশ হিসেবে ব্যয় সংকোচনের বিভিন্ন পদক্ষেপ গ্রহণ করা হয়েছে। এর মধ্যে কোম্পানীর প্রধান কার্যালয় ভাড়া করা অফিস থেকে নিজস্ব ঠিকানায়/ ফ্লোরে স্থানান্তর করা হয়েছে। এর ফলে প্রতি মাসে প্রায় ১০ লাখ টাকা ভাড়া সাশ্রয় হচ্ছে, যা প্রতিষ্ঠানটির আর্থিক ব্যবস্থাপনাকে আরো শক্তিশালী করছে।

৪)   বিশেষ নীরিক্ষা সম্পাদন:

আদালতের নিদের্শিত চার্টাড একাউন্ট্যান্টস ফার্ম  MABS & J. Partners দ্বারা  ফরেনসিক অডিট সম্পন্ন করা হয়েছে। এতে উদঘাটিত হয়েছে যে প্রতিষ্ঠানটির মাত্র ৪ জন সাবেক পরিচালকের কাছে পাওনা প্রায় ১৪০০ কোটি টাকা এবং এরাই মূলত প্রতিষ্ঠানটির বর্তমান চরম দুরাবস্থার এবং মৃতপ্রায় অবস্থার জন্য দায়ী।  ঐ ঋণ আদায়ের জন্য কোম্পানীর করণীয় সম্পর্কে সুনির্দিষ্ট দিক নির্দেশনা আছে। উল্লেখ্য যে, বর্তমানে এ প্রতিষ্ঠানটি কোম্পানী কোর্টের তত্ত্বাবধানে চলছে। সেই সুবাদে নিম্নে লিখিত বিষয়ে দরখাস্ত শুনানীর জন্য আবেদন করা হয়েছে যেমনঃ ব্যবসাহীন সময়ের জন্য সুদ মওকুফ প্রায় ১৪শত কোটি টাকা।

উল্লেখ্য মাননীয় আদালত সমস্ত দেনাদেরকে দেনা পরিষোধের জন্য ৬ মাস সময় বেধে দেয় যা ইতোমধ্যে শেষ হয়েছে এবং ঋণগুলি আদায়ে অধিকতর কঠিন এবং কার্যকরি পদক্ষেপ গ্রহণের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে যা শুনানীর অপেক্ষায় আছে। 

৫)   বার্ষিক সাধারন সভা সম্পাাদন ও শেয়ার লেনদেন চালু:

এছাড়া করপোরেট শৃঙ্খলা পুনপ্রতিষ্ঠার অংশ হিসেবে ২০১৯ থেকে ২০২৫ সাল পর্যন্ত স্থগিত থাকা কোম্পানিটির সাত (৭) টি বার্ষিক সাধারন সভা সম্পন্ন করা হয়েছে।

দীর্ঘ ৫ বছর বন্ধ থাক্রা পর ১০ মার্চ ২০২৪ তারিখে কোম্পানীটির  শেয়ার লেনদেনের কার্যক্রম পূনুরায় চালু হয়।

৬)   নতুন ব্যবসা কার্যক্রম:

আদালতের নির্দেশক্রমে প্রতিষ্ঠানটি সীমিত পরিসরে পূর্ন জামানত ভিত্তিক নতুন ঋণ কার্যক্রমও শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রায় ২৫ কোটি টাকার নতুন ঋণ বিতরণ করা হয়েছে।

বর্তমান পুনগঠিত পর্ষদের তত্ত্বাবধানে পরিচালিত এই ধারাবাহিক কার্যক্রমের ফলে পিপল্স লীজিং এন্ড ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস লিমিটেডকে একটি সুস্থ, টেকসই এবং লাভজনক আর্থিক প্রতিষ্ঠানে পরিনত করার বাস্তব সম্ভাবনা সৃষ্টি হয়েছে।